বৃহস্পতিবার রাতটা আমার ভালই লাগে ।। শুক্রবার সকালে ময়লা নেয়ার গাড়ীটা এলাকায় আসে কিচেন আর রিসাইক্লেবল গার্বেজ কালেক্ট করতে; তাই রাতের মধ্যে বাড়ি সংলগ্ন রাস্তাটাতে ময়লার বিনগুলি রেখে আসতে হয় ।। ডিনার শেষ করে, কিচেন গার্বেজের পলিথিনের ব্যাগটা বেঁধেছেদে মোটামুটি দশটা/সাড়ে দশটা নাগাদ ঘর থেকে বের হই ।। লম্বা সবুজ বিনটার তলায় ময়লার বস্তাটা ফেলে অর্ধেক ভাঙা হ্যান্ডেলটা ধরে, পুরনো চাকায় ঘর্ঘর আওয়াজ তুলে নিশুতি রাতের ক্যানবেরার নিস্তব্ধতার বারোটা বাজিয়ে আমি রাস্তায় নামি ।। বাড়ির সামনের লনটাকে দু'ভাগ করা ফুটপাতটা ধরে আস্তে আস্তে কয়েক কদম হেঁটে, মূল রাস্তার ফুটপাতে উঠি ।। তারপর ডানদিক মোড় নিয়ে ফুটপাত ধরে এগিয়ে ডানে বাঁক নিলে অন্ধকারে চোখে পড়ে গাছের নিচে সার বেঁধে দাঁড়ানো ইউনিটের অন্য বাসা গুলির কিচেন গার্বেজের সবুজ বিনের সারি ।। আস্তে আস্তে আমার বিনটাকে একপাশে পার্ক করে বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে আকাশের দিকে তাকাই ।।
কোনদিনই নিরাশ হতে হয় না ।। নক্ষত্র খচিত আকাশ প্রতিরাতে ভাগ্যে না জুটলেও, কালো আকাশে মেঘের ঘনঘটার দিকে তাকিয়ে থাকলেও বিচিত্র শূন্যতার অনুভূতিটা সর্বাঙ্গে অনুভব করি প্রতি বৃহস্পতিবার রাতেই ।। আজ অবশ্য আকাশে তারার হাট বসেছে ।। উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম যেদিকেই তাকাই, লক্ষ লক্ষ্ হলদে-শাদা-কমলা-লালচে নক্ষত্ররা আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে, দিকচক্রবাল পেরিয়ে, মনে হচ্ছে ক্যানবেরার মাটিতেও নেমে এসেছে ।। এত তারকার ভিড়ে তরমুজের ফালির মত চাঁদ বেচারা পশ্চিমাকাশে একটা গাছের আড়ালে গুটিসুটি মেরে বসে আছে ।। তারাদের আলোয় বেচারার আলোটা বড় নিষ্প্রভ লাগছে ।। ( নক্ষত্র চেনার লেখাপড়াটা মনে হয় শুরু করে দিতেই হবে, আকাশ জুড়ে এত ঐশ্বর্যকে দিনের পর দিন উপেক্ষা করাটা মোটেই ভাল হচ্ছে না )
নক্সস্ট্রীট ধরে হঠাৎ ছুটে যাওয়া গাড়ির হেডলাইটের আলোকে উপেক্ষা করলে, নিজেকে বিশ্বচরাচরে একমাত্র প্রাণী বলে ভ্রম হয় ।। মনে হয়, আকাশের এই রত্নরাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী বুঝি এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হোমো স্যাপিয়েন্সটি ।। হঠাৎ জুটে যাওয়া আকাশের মালিকানা পেয়ে হৃদস্পন্দন আটকে আসে নাকি, দ্রুততর হয়, সেই অনুভূতিটাও লোপ পায় জেগে ওঠা আত্মঅহমিকার কুহকে ।। উদ্ধত শিরের নিচে ঘাড়টা ধরে আসলে মাথাটা মাটির পৃথিবীতে নেমে আসে ।। পায়ের নিচে ব্যাকইয়ার্ডের পেবল গুলিতে মড়মড় শব্দ তুলে ঘরে ফিরে যাই ।।
No comments:
Post a Comment