Sunday, October 12, 2014

এশিয়ার প্রাচীর টপকে - ১১ (মার্লিনের গল্প)

খনির পাথর ভাঙতে ভাঙতে একজন শ্রমিক ভূগর্ভস্থ একটা গুপ্তগৃহ আবিষ্কার করে ফেলে ।। ঘরের মাঝখানে অজস্র রত্ন আর গোপন ট্র্যাপের মাঝখানে শুয়ে থাকা ধাতব দেহের মাঝখানে মস্ত নীল রত্ন ঝলমল করছে ।। সেই রত্নের লোভে লোভে এক চোর হাজির হয় ক্যামেলট রাজ্যে ।। মার্লিনকে পদে পদে অপদস্থ করে, আর্থারের আস্থাভাজন হয় ।। গভীর রাতে, আর্থারের ঘর থেকে গোপন কক্ষের চাবী চুরি করে প্রহরীদের ঘুমের ওষুধ দিয়ে বেহুঁশ করে অনুপ্রবেশ করে ।। ছুরি দিয়ে চাড় দিয়ে মৃতের বুকে আটকানো নীলকান্তমনি খুলে হাতে নিতেই সর্বনাশ ডেকে আনে নিজের আর ক্যামেলটের ।। সেই মণির ভেতরে ছিল, অমরত্ব পাওয়া ভয়ংকর এক জাদুকরের আত্মা ।। চোরের দেহে নিজেকে প্রবেশ করিয়ে, ক্যামেলটের আকাশে দুর্যোগের ছায়া নামিয়ে আনে সেই পাপাত্মা ।। রাতের অন্ধকারে ডানামেলা হিংস্র দানবকে নিয়ে আসে কালো জাদুর মায়ায় ।। অসম লড়াইয়ে প্রাণ দিতে হয় ক্যামেলটের সেরা নাইটদের ।। রাজপুত্র আর্থারের প্রাণসংহারে উদ্যত দানবকে শেষ মুহূর্তে ধ্বংস করে, প্রাচীন ড্রাগনের কাছ থেকে আরো শক্তিশালী জাদু নিয়ে আসা, মার্লিন ।। অমরত্ব নিয়ে পৃথিবীকে শাসন করার লোভের কাছে মার্লিনকে পরাভূত করতে ব্যর্থ কালো জাদুকরের আত্মাকে আবার নীল রত্নে বন্দী করে মার্লিন ।।


বাসার তিনজন মানুষের তিনরকম চাহিদার কারণে, টেলিভিশনের সামনে তিনজনকে কখনোই একসাথে দেখা যায় না ।। কিন্তু, ব্যতিক্রম হচ্ছে, উইকএন্ডের বিকাল/সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা থেকে সোয়া সাতটা ।। এই সময়টাতে, টিভির সামনের তিনজন বসার সোফাটাতে চতুর্থ কারো বসার জায়গা থাকে না ।।  মার্লিনের জাদুতে অস্ট্রালিয়ার শনি-রবিবারের বিকেলগুলি টিভির এলসিডি স্কৃণের চৌকোণা বাক্সে আটকে থাকে ।।

No comments: