Saturday, October 18, 2014

নাতিশীতোষ্ণ চা



ধানমন্ডি আটনম্বর ব্রিজ সংলগ্ন রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন বড় বট-জাতীয়-গাছের নিচের বাঁধানো চত্বরে অন্ধকারে ভূতের মত বসে অদূরে ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলরত গাড়ির হেডলাইট-ব্যাকলাইটের লেকের পানিতে প্রতিবিম্ব আর আকাশ-চেরা ঘনঘন বিদ্যুতের ফলা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে, সামনের কাবাবের দোকান থেকে একটা ক্রোমিয়াম-যুক্ত-বিচ্ছিরি-মুর্গী-ভাজা দিয়ে খানতিনেক লুচি সাবাড় করতে করতে নেমে আসা বছরের প্রথম ঝুম বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দিয়ে খানা শেষ করে, একশ-পনেরো টাকা আক্কেল-সেলামী দিয়ে, ছাতা মাথায়, আধভেজা হয়ে ব্রিজের পাশের নতুন অর্ধচন্দ্রাকৃতির ওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে দু'জোড়া যুগল মানব-মানবীর মাঝখানে কাবাবের শক্ত-লম্বা-হাড্ডির মত দাঁড়িয়ে লেকের পানিতে বৃষ্টির তান্ডবনৃত্য আর রোমান্টিক কাপলের ব্যালে-ডান্স দেখে মুগ্ধ হয়ে, ওভারব্রিজ থেকে নেমে শ্রমজীবী মহিলার হাতে বানানো বৃষ্টি-ভেজা নাতিশীতোষ্ণ কড়া চায়ে হালকা চুমুক দিয়ে দু'খানা ছবি তুলে, অন্ধকার লেকের পার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আর চারিদিকের বৃষ্টিবিলাসী মানব/মানবীদের দেখে বিস্ময়াকুল হয়ে বত্রিশ নাম্বারে শেখ সাহেবের বাড়ির সামনের বন্ধ স্যুভেনির শপের সামনে, দাঁড়িয়ে কাঁচের দেয়াল ভেদ করে, বঙ্গবন্ধুকে দেয়া লেখক-কবি-সাহিত্যিক-প্রাবন্ধিকদের শ্রদ্ধার্ঘ আর বন্দনা দর্শনে অশেষ প্রীত হয়ে, কিছুদূর হেঁটে পয়েন্ট-থার্টিটু নামের দোকান থেকে কয়েকচুমুক ঠান্ডাপানীয় দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করে, আরো কিছুদূর হেঁটে ঢাকার অন্যতম সুরম্য-আকর্ষণীয়-ছিমছাম-অভিজাত তাকওয়া মসজিদে এশার নামাজ পড়ে ধানমন্ডির প্রায়ান্ধকার রাস্তা ধরে সম্ভাব্য-ছিনতাইকারী-আতঙ্কে ঈষৎ-দৌড়ে আর কিছুদূর লেকের পার ধরে হেঁটে, প্রায় নিশুতি রাত্রিতেও দাবা-প্রেমী মানুষ আর আড্ডারত কিশোরদের ছাড়িয়ে আপন গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর মনে হল, "রাতটা লেকের পারে কাটিয়ে দিলে বেশ হত"


"বাংলা বছরের প্রথম বৃষ্টি দর্শনটা স্মরণীয়ই হয়ে থাকল বলা যায়"

No comments: