স্বপ্নের ? আসলেই স্বপ্নের ।। অনেকদিন আগে, আমাদের শৈশবে যখন বাংলাদেশ একটা মোটামুটি বড়সড় গ্রামই ছিল, তখন আমাদের এক বৈমানিক নানা লেগোর সর্বনাশা খেয়াল মাথায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন ।। বিমান চালনার সুবাদে নানা দেশে ভ্রমণের সময় মাঝে সাঝে আমাদের জন্য একটা দু'টো লেগোর বাক্স এনে দিতেন ।। এছাড়াও আব্বার পোশাক শিল্পে কাজ করার কারণে নানা দেশে কর্মসূত্রে যাতায়াতের সময় আমাদের একমাত্র বায়না ছিল, লেগো!
এই লেগোর সিন্দাবাদের ভূত আমার ঘাড় থেকে সাক্সেসফুলি আমার ছেলের ঘাড়ে নামাতে সমর্থ হলাম, পুত্রের মায়ের রিসার্চ সংক্রান্ত কাজে নানা দেশে যাতায়াতের সুযোগ নিয়ে ।। নানান দেশে সেমিনার, কনফারেন্সে যাওয়ার সময়, বলে দিতাম ছেলের জন্য দুয়েকটা লেগোর বক্স নিয়ে আসতে ।। ব্যস সেই থেকে শুরু ...
ক্যানবেরা সেন্টার থেকে ফেরার সময়, ছেলের উচ্ছ্বাস দেখে মিটিমিটি হাসছিলাম ।। ব্যাগ থেকে একটু পরপর বাক্সটা নামানোর অনুরোধ, "বাবা ! একটু দেখি তো ।। একটু ছবিগুলি দেখবো ।।" মাথার চুল কয়েকটা না পাকলে আমিও হয়ত, লেগোর বাক্স জুড়ে ছাপানো প্রমাণ সাইজের খেলনা গুলির ছবি দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরতাম ।।
বাড়ি ফিরে, গোসল, খাওয়া আর নামাজ সারতে যতটুকু দেরী ।। তারপর, বাপ-বেটা মিলে বসলাম, নতুন কেনা নীল-কালো স্বপ্নের পসরা নিয়ে ।। সযতনে, বাক্সের কোণার অর্ধচন্দ্রাকৃতির দাগে আঙুলের চাপ দিয়ে ছিঁড়ে, ধীরে ধীরে বাক্সের মুখ খুলে, ক্ষুদে ক্ষুদে পার্টসের প্যাকেট গুলি আলাদা করে, ইন্সট্রাকশন ম্যানুয়াল খুলে, মোটামুটি ঘন্টা দেড়েকের সাধনার পর, আমাদের কোল, জে, নিনড্রয়েড আর তাদের ভিহিকলগুলি ড্রইং রুমের কার্পেটের উপর দাঁড়ালো ।। কী অসাধারণ দৃশ্য ।। ছেলের মা পর্যন্ত বিস্ময়াকুল হয়ে গেল, আমাদের সদ্যবানানো লেগোশিল্প দেখে ।।
মনে পড়ল, বছর কুড়ি-পঁচিশ আগে, বালকবেলায় আল্লাহর কাছে আবেদন ছিল, বেহেস্তে যদি প্রভু যাওয়ার সুযোগ করে দাও, অনেকগুলি বিশাল বিশাল লেগো সেট দিলেই চলবে, এর বেশী কিছু চাই না ।। সেদিন মনে হল, আল্লাহ বুঝি দুনিয়াতেই বেহেস্ত দেখিয়ে দিলেন ।।
No comments:
Post a Comment