বাংলাদেশে আমার পরিচিত বেশ কিছু মানুষ মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ।। তাদের অধিকাংশেরই বয়স কম, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ।। অনেকের ক্ষেত্রেই কারণটা হয়, সময়মত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না করতে পারা অথবা, পড়াশোনার চাপ সামলাতে না পারা ।। অথচ তারা হয়ত দারুণ গাড়ি চালায়, চমৎকার রান্না করে, কোরবানীর সময় কসাইদের সাথে হাত মিলিয়ে আস্ত গরু ম্যানেজ করে ফেলে, ইংরেজী ভাষায় ভালোভাবে কমিউনিকেট করতে পারে, বাসা মেইনটেন্যান্স, ইম্প্রুভমেন্টের নানান খুঁটিনাটি বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখে, ভাল সাঁতার জানে ।।
মোটা দাগে চিন্তা করলে আমার কাছে মনে হয়, কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে এবং একটা ডিসেন্ট চাকরী জোগাড় করতেই হবে, এই চিন্তাটা তাদের মানসিক অবস্থার জন্য একটা বিরাট যন্ত্রনা হয়ে দাঁড়ায় ।। অন্যসব লাইফস্কিল হঠাৎ করে তুচ্ছ হয়ে যায়, এই পড়াশোনা আর চাকরির জটিলতায় পরে ।।
দেশ ছেড়ে আসার আগে শুনেছি, আর এখন নিজের চোখে দেখছি, চাকরি, ক্যারিয়ার এই জিনিসগুলি নিয়ে বাংলাদেশের কিছু সেট ধারণার বাইরেও কিছু বিষয় আছে ।। যেমন, এখানে, একজন ট্রেডি (লেটস সে, ইলেকট্রিশিয়ান) নিজের ব্যবসা থেকে যা রোজগার করে, সেটা একটা কোম্পানীর মাঝারি মানের কর্মকর্তার আয়ের সমান ।। ট্রেডিস দের ঘন্টা প্রতি আয় অসম্ভব রকম বেশী হওয়ার কারণে, লোকজন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাসায় রাখে টুকটাক মেইনটেন্যান্সের জন্য ।। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর সরকারী চাকরিজীবিদের বেতন, সুযোগসুবিধা অনেক ভালো ।। আবার, দোকানে চুল কাটতে গেলে, বারবারকে একগাদা ডলার দেয়ার ভয়ে, অনেকে মাসের পর মাস চুলই কাটে না।। তার মানে, টাকা উপার্জন করে বেঁচে থাকার জন্য শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে গ্র্যাজুয়েট হয়ে চাকরি করা ছাড়াও অনেক কিছু করা সুযোগ আছে একজন ইয়াং অস্ট্রালিয়ানের ।।
বাংলাদেশের মত বিরাট জনসংখ্যার দেশে শুধু নানা ধরণের সার্ভিস (যেমন, চুলকাটা, বেবিসিটিং, ডে-কেয়ার, ঘরদুয়ার পরিষ্কার রাখা, বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনা-নেয়া করা, বাসার গেটে দাঁড়িয়ে থাকা ) দিয়েই তো লোকজনের দিন কেটে যাওয়ার কথা ।। অথচ, ঢাকাতে পয়সা খরচ করেও কোন ধরণের সার্ভিস পাওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার ।।
হয়ত, ঢাকাতেও একদিন, "কাজ"কে "কাজ" হিসেবে দেখা হবে আর অর্থনীতির চাকার সাথে এই আপাততুচ্ছ কাজগুলিকেও বেঁধে ফেলা হবে।।
No comments:
Post a Comment