Saturday, December 24, 2016

কনে দেখা আলোয় ফল খেকো শামুক আর রঙধনু


গরম পড়েছিলো সকালে। বিকাল থেকে তুমুল বৃষ্টির কারণে, লেক গ্রিফিনে যাওয়ার প্ল্যানটা বাদ দিতে হল। ইলেকট্রিক চুলায় ডিনারের জন্য তৈরী হতে থাকা চাইনিজ হক্কা ন্যুডলসের ঘ্রাণ ছাপিয়ে শেফের আনন্দিত হাসি শুনলাম - দেখো, কী সুন্দর আলো। বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা-হব-হব বিকালে সূর্যের শেষ আলো ইউক্যালিপ্টাস ঘেরা তিনতলা-চারতলা বাড়িগুলির মাথায় সোনালী আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। কৌতুহল হল, পশ্চিমের সূর্যাস্তের আলো দক্ষিণে যদি আলোর এত রঙ ছড়ায়, তাহলে, পূবের আকাশের রঙটা কেমন! দেখতে বের হলাম। বৃষ্টির পানি পেয়ে বাড়ির পাশের ঝোপ ঝাড় থেকে শামুকের দল বেরিয়েছে খাবার খুঁজতে। ফুটপাথে উঠে আসা তিন চারটাকে পা মাড়ানো বাঁচিয়ে সাবধানে কয়েক কদম এগোতে চোখে পড়ল, লালচে রঙের একটা খোলা। আজিব তো! এই শহরের শামুকের শেল তো অবিকল বঙ্গদেশের জাতভাইদের মতন। খালি সাইজে একটু ছোটখাটো। নিচু হতে চোখে পড়ল, বাড়ির পাশের লাল-সবুজ পাতার গাছ থেকে পড়া ফলের উপর হামলে পড়ে ডিনার করছেন, শামুক বাবাজী। শামুকের রস খাওয়া দেখতে দেখতে মগ্ন হয়ে খেয়াল করিনি, পাশের মস্ত ঝোপে ঢাকা পড়া আকাশে সাত রঙের খেলা। রাস্তায় উঠে পূবের মাজুরা পাহাড়ের দিকে তাকালাম। দক্ষিণের সোনালী আলো পূবের সবুজ বনে ঢাকা মাজুরা পাহাড়ের ব্যাকগ্রাউন্ডে যেন আরো ঝলমল করছে। সোনালী আগুনে ঝলসানো পাহাড় থেকে চোখ কয়েক ডিগ্রি সরিয়ে দেখলাম, বৃষ্টির পানির ফোঁটায় প্রতিফলিত সুর্য কিরণের অপূর্ব সৃষ্টি - রঙধনু। বিশাল সাত-রঙা ধনুকটা বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডের বিশাল গাছটাকে সাবধানে বাঁচিয়ে ক্যানবেরার আকাশকে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে। তাকিয়ে থাকলাম, তাকিয়েই থাকলাম। রঙধনুর রঙের উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকল, বাড়তেই থাকল। পনের মিনিট, নাকি আধঘন্টা কেটেছিল, মনে নাই। অবাক বিস্ময় নিয়ে দেখতে দেখতে এক সময় গোধুলির আলোটা বেশ কমে গেলে বাড়ি ফিরলাম।

সকালে মর্নিং ওয়াকে বের হয়ে দেখলাম, শামুক শূন্য ফুটপাতে, গতকাল সন্ধ্যার আধখাওয়া ফলটাতে পিঁপড়ার দল ব্রেকফাস্ট করছে ।।

No comments: