দশটার সময় দশজন হাজির হল বোর্ড রুমে ।। পাঁচটা গিফট-হ্যাম্পার টেবিলে সাজানো ।। সুন্দর আয়তাকার বাক্স বোঝাই জুস, বিস্কুট, কফি, লোশন নানান রকমারী জিনিসপাতি ।। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, সেলস টিমের তিড়িং-বিড়িং-হাসিখুশী মানুষটা সবাইকে জবরদস্তি করে, পাঁচ, দশ, বিশ, পঞ্চাশ ডলার করে চাঁদা আদায় করে এইসব মালামাল কিনেছে ।। দু'জন দু'জন করে দল করে একটা করে বাক্সের দায়িত্ব দেয়া হল ।। দক্ষিণ-আমেরিকা থেকে টকাস-টকাস করে হাঁটা আর কাস্টমারদের সাথে "হ্যালো, অমুক স্পিকিং, হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ" বলে শুরু করে মিষ্টি হাসি দিয়ে কথা শেষ করা মানুষটা আমার ভাগে পড়ল অথবা, তার ভাগে আমি পড়লাম ।।
সুন্দর রোদ-বাতাসী দিনে অফিসের টাওয়ার ছাড়লাম বাক্স হাতে ।। হাতের কাছেই বেলমোর পার্ক ।। ভবঘুরে, মাতাল, হোমলেস আর রোমাঞ্চ প্রিয় টুরিস্টদের আস্তানা ।। পার্কের সীমানা ঘেঁষে টানানো স্থায়ী/অস্থায়ী তাঁবু গুলিতে তাদের সংসার ।। ঢুকতেই চোখে পড়ল, হলদে ত্রিকোণ তাঁবুর সামনে বাক্সের ওপর সাদা চুল-দাড়ির এক বৃদ্ধ বসে হাওয়া খাচ্ছে ।। হাতের বাক্সটা তাকে দিয়ে হালকা হবার জন্য এগোতে এগোতেই দেখি, আমাদের আরেক দল তাকে ক্রিসমাসের গিফট দিয়ে বসেছে ।। কী আর করা! মাথা নেড়ে সঙ্গীকে নিয়ে পাশের তাঁবুর দিকে রওনা হলাম ।। মুশকিল হল, সব তাঁবুতেই জনগণ গভীর ঘুমে মগ্ন ।। অনেক ঘুরে ফিরে বেঞ্চিতে শোয়া এক মানুষকে পাওয়া গেল ।। শ্যারন ফিসফিসিয়ে বলল, কাঁধে ট্যাপ করে বাক্সটা বুঝিয়ে দিতে ।। দিলাম ট্যাপ ।। ঘুমঘুম চোখে তাকাতেই বললাম, ক্রিসমাসের জন্য তোমার জন্য সামান্য কিছু এনেছি ।। লাখ টাকার একটা হাসি দিয়ে বলল, "মেরী ক্রিসমাস" ।। একটু দূরে দাঁড়ানো, জ্যাকলিন, শ্যারন, মার্ক আর এলেনাও হাত নাড়ল "মেরী ক্রিসমাস" বলে ।।
পার্ক থেকে বেরিয়ে লাইট-রেল লাইনটা পেরিয়ে এলিজাবেথ স্ট্রীটে রাস্তা ক্রস করার সিগন্যাল সবুজ বাতি জ্বলার অপেক্ষা করতে করতে সঙ্গী জ্যাকলিন জানালো, লোকটা ঘুম থেকে উঠে বাক্স খুলে খাওয়া শুরু করেছে ।। তার হাসির ছটাটা পেরুভিয়ান জ্যাকলিনের মুখে স্পষ্ট প্রতিফলিত হচ্ছিল ।।
No comments:
Post a Comment