যদিও এর আগে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, অশরীরিটার অদ্ভূতুড়ে কান্ডের ব্যাখ্যা হয়ত বা, ইনফরমেশন ।। কিন্তু, জিলার্ড অনেকের থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে ইনফরমেশন আর ওয়ার্কের মধ্যে সম্পর্কটাকে সংখ্যা দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ।। ১৯৬১ সালে, নিউইয়র্কের আইবিএম এর একজন গবেষক পুরো ধারণাটাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন যখন তিনি জানালেন যে, কম্পিউটারের মেমোরী ক্লিয়ার করতে ফিজিক্সের পরিভাষায় "কাজ" করা লাগে ।। তাঁর কলিগ চার্লস বেনেট এই কন্সেপ্টটাকে ম্যাক্সওয়েল আর জিলার্ডের অশরীরি পরীক্ষায় প্রয়োগ করলেন ।। তিনি বললেন যে, সেই অশরীরির বাতাসের কণার অবস্থান সংক্রান্ত নলেজটাকে কোন একটা ফিজিক্যাল মেমোরীতে জমা করে রাখতে হবে যদি সে, সেই নলেজ ব্যবহার করে গোলমাল করতে চায় ।। আর এই মেমোরীটাকে কিছুক্ষণ পর পর রিসেট করে আপডেট করতে হবে, কারণ কণাগুলি সারাক্ষণ অবস্থান পরিবর্তন করছে ।। তিনি কিছু হিসাব নিকাশ করে জানালেন যে, এই মেমোরী ম্যানিপুলেশনে যে শক্তির দরকার হবে সেটা আসবে, বাতাসের কণার আদানপ্রদান করে পাওয়া মাগনা এনার্জী থেকে ।।
তথ্য সংরক্ষণ আর খালি করার হিসাবটা করার পর, অশরীরির থার্মোডিনামিক্স জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এল কিন্তু খটকা পুরোপুরি গেল না ।। তার মেমোরী ভর্তি হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা কিন্তু, থার্মোডিনামিক্সের সেকেন্ড ল' টা ফেল মারছে ।।
গত এক দশকে এক ঝাঁক নিত্যনতুন ধারণার চলে আসার আগ পর্যন্ত আমাদের জ্ঞানের সীমা এই ধাঁধাঁর কাছে মুখ থুবড়েই পড়ে ছিল ।। ২০০৮ এ টোকিও ইন্সটিট্যুট অফ টেকনলজীর তাকাহিরো সাগাওয়া আর মাসাহিতো উয়েডার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবজারভেশন পাওয়া গেল ।। তাঁরা জানালেন যে, থার্মোডিনামিক্সের সেকেন্ড ল' কে বাঁচাতে হলে মিউচুয়াল ইনফরমেশন নামের একটা নতুন টার্মকে আমদানী করতে হবে ।। এটা বেসিক্যালী একটা অশরীরি তার অবজার্ভেবল সিস্টেম সম্পর্কে কতখানি জানে, সেটার একটা মেজারমেন্ট ।। কমপ্লাটেন্স ইউনিভার্সিটি অফ মাদ্রিদ, স্পেনের থার্মোডিনামিক্স অফ ইনফরমেশন এর ছাত্র জুয়ান পারোন্দো বুঝিয়ে বললেন যে, "একটা সিস্টেম আর একটা মেমোরী বা অ্যাপারেটাসের মধ্যে কো-রিলেশনের মেজারমেন্টটাই হচ্ছে এই মিউচুয়াল ইনফরমেশন।।"
সাগাওয়া আর উয়েডার আপডেট করা সেকেন্ড ল' থেকে জানা গেল, একটা সিস্টেম থেকে কি পরিমাণ "কাজ" বের করে আনা সম্ভব, কতখানী "অশরীরি-জ্ঞান" থাকলে ।। মানে, কত গমে কত আটা সেটা মোটামুটি বেরিয়ে গেল ।। শুধু যে, এম্পটি মেমোরীর ক্ষেত্রেই এই নতুন তত্ব প্রযোজ্য হবে তাই নয়, বরং অনেক জেনারেল সিচ্যুয়েশনেও এই থিওরী অ্যাপ্লাই করা সম্ভব ।। আর এর কনসিকোয়েন্সও খুবই অদ্ভূত হবে - পারোন্দোর মতে ।।
একটা কন্সিকোয়েন্স হচ্ছে, খালি মেমোরী হল এক ধরণের জ্বালানী ।। এই ধারণার প্রবক্তা, ইউনিভার্সিটি অফ মেরীল্যান্ডের কলেজ পার্কের ফ্রিস জারজিনস্কি আর দিব্যেন্দু মন্ডল এর ২০১২ সালের কথা ।। যদি ম্যাক্সওয়েলের অশরীরিকে খানিকটা কম্পিউটার মেমোরী দেয়া হয়, তাহলে সে সেখানে তথ্য লিখে রেখে দারুণ দারুণ সব জিনিস করতে পারবে ।। জারজিনস্কি আর মন্ডল উদাহরণ হিসেবে বললেন, কোন জিনিসকে ওপরে তুলে ধরা ।। (লেভিটেশন বলা যায়!) অবশ্য চোখে পড়ার মতন কাজ করতে হলে, সেই খালি মেমোরীর পরিমাণটাও হতে হবে, অচিন্ত্যনীয় রকমের বিশাল ।। যেমন একটা আপেলকে মিটার খানেক তুলতে হলে, ত্রিশ বিলিয়ন জিরো লেখার মতন একটা মেমোরী সরবরাহ করতে হবে, অশরীরি মামাকে ।।
এখন ঘটনা হচ্ছে, এরকম একটা দুনিয়া ফাটানো আইডিয়া পেশ করার জন্য খুব কড়া টেস্ট করা দরকার ।। তার মানে, একটা আসল অশরীরিকে কোথাও থেকে ধরে আনতে হবে ।। সেটা ক্যাম্নে হবে, বলা খুবই মুশকিল ।। ম্যাক্সওয়েলের অরিজিনাল থট এক্সপেরিমেন্টের অশরীরিটার চিন্তা ভাবনার পরিধি, গভীরতা ছিল অনেক বিশাল ।। বাক্স ভর্তি বিলিয়ন, জিলিয়ন বাতাসের কণার গতিবিধি প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করা তো আর চাট্টিখানি কথা না ।। এরকম একটা অদ্ভূতুড়ে জিনিসকে ফিজিক্স ল্যাবে এমুলেট করা এক কথায় অসম্ভবই বলা চলে ।। তার বদলে যদি অতি ক্ষুদ্র কিছু বানানো যায়, যেটাতে ফ্লো-অফ-হিট, ওয়ার্ক আর ইনফরমেশন ক্লিয়ারলি ট্রেস করা যাবে, তাহলেও আমাদের কাজ হয়ে যাবে ।।
(চলবে)
[নিউ সায়েন্টিস্ট পত্রিকার চৌদ্দই মে দু'হাজার ষোল এডিশনের "ম্যাটার, এনার্জী ... নলেজ : হাউ টু হার্নেস ফিজিক্স'স ডেমনিক পাওয়ার আর্টিকেলের ভাবানুবাদ]
No comments:
Post a Comment