ভরদুপুরে সিটি বাসস্টপের নয় নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে নয়শ একাশি নম্বর বাসের আরোহী হয় মিনিট কয়েক চলারপর, পথটা কেমন অচেনা হয়ে গেল ।। একটা টানেলের হলুদ আলোর অন্ধকার থেকে বের হয়ে মনেহল, স্পেস-টাইমে কোন একটা গোলমাল করে আমাদের রাস্তাটা মনে হয়, উত্তরবঙ্গের রামসাগরদীঘির পাড়ে চলে এসেছে ।। ক্যানবেরার কৃত্রিম হ্রদের এই পাড়টায় আগে কখনো আমরা আসিনি।। আমাদের সচরাচর চলাচলের পথ, সিটিসেন্টার থেকে য়োডেন কিংবা টাগেরানঙ যাওয়ার পথেলেকের যে দিকটা আমরা অতিক্রম করি, তাতে অনেক বেশী পশ্চিমা ফ্লেভার ।। লেকের পাড়ঘেঁষে সাজানো-গোছানো চওড়া বাঁধানো সাইকেল চলার আর হাঁটার/দৌড়ানোর রাস্তা, অদূরে ন্যাশনালমিউজিয়াম, তারও অদূরে পার্লামেন্ট হাউজের প্রেক্ষাপটে লেকটাকে কেমন অচেনা অচেনামনে হত ।। কিন্তু, আজকে ঝড়ো বাতাসের গ্রীষ্মের দুপুরে লেকের পানিতে ঢেউয়ের নাচ,জঙলা পাড়, পথের অন্য পাশের জঙ্গলে ছাওয়া পাহাড়ি পথ আর লেকের একদম পাড় ঘেঁষে চলা হাইওয়েধরে যেতে যেতে মনে হল, পরিবেশটা অনেক পরিচিত - দক্ষিণ এশিয়ার বদ্বীপের গন্ধ মাখা।।
টেলস্ট্রা-টাওয়ারকে ঘিরে একটা চক্কর খেয়ে বাসটা পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলে,রক্তে একটা শিহরণ অনুভব করলাম ।। ক্যানবেরা শহরটা পাহাড়ের পটভূমিতে গড়ে উঠলেও, বাসিন্দাদেরআবাসন আর শহরের মূল কেন্দ্র সবই সমতলে ; দুয়েকটা দূরের সাবার্ব ছাড়া ।। কিন্তু,সেখানে গেলেও বড় জোর টিলাটক্করের ফিলিং আসে, এর বেশী কিছু না ।। কিন্তু, আজ এইবুনো পথে আমাদের শকট যখন বাঁক খেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল, আমার পাহাড় প্রেমী মনটাহঠাৎ উড়ুউড়ু হয়ে উঠল ।।
রাস্তার পাশের লেকটা একটু বাদেই নিচে চলে গেল, অনেক নিচে।। আর আমরা বাসের কাঁচের জানালায় চোখ আটকে রুদ্ধশ্বাসে উপভোগ করতে লাগলাম, চিরাচরিতপাহাড়ী শূন্যতা, দূরের মায়াবী নীল, আকাশী আর ঘননীল পাহাড়ের সারির চিরায়ত ক্যানভাস (পৃথিবীরসবপ্রান্তেই যার আবেদন আমার কাছে সবসময়ই একই থাকবে) আর নিচে মাইলের পর মাইলপ্রসারিত সমতল ক্যানবেরার সাবার্ব, অফিস, মিউজিয়াম, পার্লামেন্ট আর লেক ।। এক এককরে জু, আরবোরেটাম, হিমালয়ান সিডার পেরিয়ে আমরা ব্ল্যাক মাউন্টেনের চূড়ায় পৌঁছেগেলাম ।।
টেলস্ট্রা-টাওয়ারকে ঘিরে একটা চক্কর খেয়ে বাসটা পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলে,রক্তে একটা শিহরণ অনুভব করলাম ।। ক্যানবেরা শহরটা পাহাড়ের পটভূমিতে গড়ে উঠলেও, বাসিন্দাদেরআবাসন আর শহরের মূল কেন্দ্র সবই সমতলে ; দুয়েকটা দূরের সাবার্ব ছাড়া ।। কিন্তু,সেখানে গেলেও বড় জোর টিলাটক্করের ফিলিং আসে, এর বেশী কিছু না ।। কিন্তু, আজ এইবুনো পথে আমাদের শকট যখন বাঁক খেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল, আমার পাহাড় প্রেমী মনটাহঠাৎ উড়ুউড়ু হয়ে উঠল ।।
রাস্তার পাশের লেকটা একটু বাদেই নিচে চলে গেল, অনেক নিচে।। আর আমরা বাসের কাঁচের জানালায় চোখ আটকে রুদ্ধশ্বাসে উপভোগ করতে লাগলাম, চিরাচরিতপাহাড়ী শূন্যতা, দূরের মায়াবী নীল, আকাশী আর ঘননীল পাহাড়ের সারির চিরায়ত ক্যানভাস (পৃথিবীরসবপ্রান্তেই যার আবেদন আমার কাছে সবসময়ই একই থাকবে) আর নিচে মাইলের পর মাইলপ্রসারিত সমতল ক্যানবেরার সাবার্ব, অফিস, মিউজিয়াম, পার্লামেন্ট আর লেক ।। এক এককরে জু, আরবোরেটাম, হিমালয়ান সিডার পেরিয়ে আমরা ব্ল্যাক মাউন্টেনের চূড়ায় পৌঁছেগেলাম ।।
হাসিমুখের ড্রাইভার আটশ মিটার উঁচু বাস স্টপে আমাদের নামিয়ে দিয়ে জানিয়েগেল, এখান থেকেই ফেরার বাস ছাড়বে ।। মাথা নেড়ে আমরা নামলাম ।। পাহাড় চূড়ায়অতিকায়-উল্লম্ব ভিনগ্রহের স্পেসশীপের মত টেলস্ট্রা-টাওয়ার, মতান্তরে ব্ল্যাক-মাউন্টেনটাওয়ার অথবা, আমার ভাষায় – “কালা পাহাড়ের সাদা খাম্বা” দাঁড়িয়ে আছে, অস্ট্রালিয়ানটেলিকমিউনিকেশনস প্রযুক্তির গর্ব বুকে নিয়ে উনিশশ’-আশি সাল থেকে ।। সিঁড়ি বেয়েওপরে উঠে টাওয়ারে ঢুকলাম ।। ভেতরে প্রশস্ত লবিতে ভ্রমণার্থীদের জন্য আরামদায়ক সোফাআর পাশেই রেস্টরুম ।। বাসা থেকে আনা টুনা স্যান্ডউইচ আর ডিনো-স্ন্যাকসে মধ্যাহ্ন-ভোজ সেরে, সতেরো ডলার খরচ করে কাউন্টারের অজি-নীর কাছ থেকেটাওয়ারের ভেতরে ঢোকার অনুমতি আদায় করলাম ।।
লিফটের ভেতর এক-দুইয়ের পরবর্তেদশ-মিটার, বিশ-মিটারের লেবেল টানানো ।। গুণে গুণে ষাট মিটার উঠে লিফট থামল ।। লিফটথেকে বেরিয়ে গাদাখানেক য়ুরোপীয়, উত্তর-আমেরিকা আর স্থানীয় পর্যটকের সাথে আরো কয়েকধাপ সিঁড়ি বেয়ে উঠে বাতাসের রাজ্যে প্রবেশ করলাম ।। টেলস্ট্রা টাওয়ারের ষাট মিটারওপরের ভিউইং ডেকে ওঠার আগে দেয়াল জুড়ে সাবধানবানী টানানো ছিল – তীব্র বাতাসেরব্যাপারে ।। একবিন্দু বাড়িয়ে বলেনি ।। প্রবল ঝড়ো বাতাসে মনে হচ্ছিল, বঙ্গদেশেরস্লীম শরীরটাকে উড়িয়ে প্যাসিফিক পেরিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় নিয়ে ফেলবে ।। কোন মতে তাল (আর ক্যামেরা) সামলে, খোলা পর্যবেক্ষণ ডেকের চারিদিকের উঁচু নিরাপত্তা-গরাদ ভেদ করে তিনজনে ছ’টা-চোখ(আর প্রাণ) ভরে উপভোগ করলাম দ্বীপ-মহাদেশের রাজধানীর নয়নাভিরাম তিনশ-ষাট ডিগ্রিপ্যানারোমা ভিউ ।।
পুরো টাওয়ার চক্রাকারে বার কয়েক ঘুরে নেমে আসলাম নিচ তলার ক্যাফেটেরিয়াকাম স্যুভেনির শপে ।। নানান অসি-জীবজন্তুর সফট-টয়, ম্যাগনেট, ভিউ-কার্ড, টেলস্ট্রারমনোগ্রাম আঁকা পাউচ, ব্যাগ, পেন-হোল্ডার, মগ – টিপিকাল ট্যুরিস্টি জিনিসপত্রে ঠাসাক্ষুদে দোকানটা ।। দেখেশুনে, ব্ল্যাকমাউন্টেন আর টেলস্ট্রা-টাওয়ারের সাথে প্রথমদর্শন স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে একটা টাওয়ারের ছবিওলাম্যাগনেট আর দু’টো ভিউকার্ড নিলাম ।। বড়ো এক মগ ফ্ল্যাট-হোয়াইট কফি আর আরিয়ানের জন্য ছোট একটাফান্টার বোতল নিয়ে আমরা বুড়ো-বুড়ি (?) আর আমাদের ছয়বছুরে নওজোয়ান একটা টেবিল দখলকরে বসলাম, শনিবারের ছুটিটা আয়েশ করে উপভোগ করতে ।।
পুরো টাওয়ার চক্রাকারে বার কয়েক ঘুরে নেমে আসলাম নিচ তলার ক্যাফেটেরিয়াকাম স্যুভেনির শপে ।। নানান অসি-জীবজন্তুর সফট-টয়, ম্যাগনেট, ভিউ-কার্ড, টেলস্ট্রারমনোগ্রাম আঁকা পাউচ, ব্যাগ, পেন-হোল্ডার, মগ – টিপিকাল ট্যুরিস্টি জিনিসপত্রে ঠাসাক্ষুদে দোকানটা ।। দেখেশুনে, ব্ল্যাকমাউন্টেন আর টেলস্ট্রা-টাওয়ারের সাথে প্রথমদর্শন স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে একটা টাওয়ারের ছবিওলাম্যাগনেট আর দু’টো ভিউকার্ড নিলাম ।। বড়ো এক মগ ফ্ল্যাট-হোয়াইট কফি আর আরিয়ানের জন্য ছোট একটাফান্টার বোতল নিয়ে আমরা বুড়ো-বুড়ি (?) আর আমাদের ছয়বছুরে নওজোয়ান একটা টেবিল দখলকরে বসলাম, শনিবারের ছুটিটা আয়েশ করে উপভোগ করতে ।।
চারধারে শাদা পর্যটক, তাদেরফুটফুটে বাচ্চা-কাচ্চাদের ক্যাঁচম্যাঁচ, গোল্ডেন-রেশিওর সুষমা মন্ডিত য়ুরোপীয়সুন্দরীদের কালো আর স্বর্ণ কেশের উজ্জ্বলতা পরখ করতে করতে আর বৃত্তাকার জানালারওপাশে পার্বত্য পটভূমির প্রেক্ষাপটের রূপসী ক্যানবেরার রুপ-মাধুরীতে অবগাহন করতেকরতে কফির মগের কফি ফুরিয়ে গেল একসময় ।। ব্যাকপ্যাক আর ক্যামেরা কাঁধে ঝুলিয়ে লিফটধরে নিচে নামতে চোখে পড়ল এক্সিবিশন সেন্টার আর অডিটোরিয়ামে যাবার আমন্ত্রন ।।
অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে টেলস্ট্রা টাওয়ারের নির্মানশৈলী, উপযোগিতা আর ইঞ্জিনিয়ারিংনিয়ে জ্ঞানগর্ভ ডকুমেন্টারী থেকে কিছু জ্ঞান আহরণ করে পাশের এক্সিবিশন সেন্টারে শতবছরের পুরনো যোগাযোগ প্রযুক্তির কিছু নিদর্শনে চোখ বুলালাম ।। অস্ট্রালিয়ারঅর্ধ-শত বছরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত প্রাচীন টেলিফোন,টেলিগ্রাফ-প্রযুক্তির শত বছরের পুরনো বিজ্ঞাপন, মোর্সকোডের কাজে ব্যবহৃতপার্ফোরেটর মেশিন, অ্যানশিয়েন্ট গ্যালভানোমিটার, মধ্যযুগের টেলিফোন স্যুইচ কী নেইসেখানে !! হলদেটে আলোর নিচে চারটা শোকেসে আটকে রাখা এক শতাব্দী আগের পুরনো সময়টাকেবাঁধলাম দু’হাজার পনেরো সালের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্যামেরার ডিজিটাল স্মৃতিতে ।।
শনিবারের বিকেলটাকে স্মরণীয় করে রেখে, টেলস্ট্রা টাওয়ারের দীর্ঘ অবয়বের সাথেনিজেদেরকে ক্যামেরার মেমোরীতে আটকে বিকেলের শেষ বাস ধরে আমরা আপন আলয়ে ফিরলামসূর্য ডোবার আগেই ।।

No comments:
Post a Comment