ইস্টারে অস্ট্রেলিয়াতে টানা চারদিনের লম্বা ছুটি পাওয়া যায়। এর মধ্যখানের একটা দিন বেছে নিলাম চেনা সিডনীর অচেনা অংশে পায়চারী করার জন্য। সিডনী হারবার এলাকায় অবস্থান বারাঙরুর। উইনিয়ার্ড স্টেশনের চারনম্বর এক্সিট দিয়ে বেরিয়ে মিনিট খানেক হাঁটলেই বারাঙরুর অফিস পাড়া। গ্লাস আর কংক্রিটের আলিশান আধুনিক স্থাপনার ছড়াছড়ি। আজকে ছুটির দিন হওয়ায় অবশ্য কেতাদুরস্ত কর্মকর্তা আর কর্মচারীর পরিবর্তে ঢিলেঢালা, হালকা পোশাকের টুরিস্টের আনাগোণা চতুর্দিকে। ফেরীঘাটের একপাশে সার বাঁধা রেস্টুরেন্টের সমারোহ। নানান বাহারী খাবার আর পানীয়ের সুবন্দোবস্ত। দাম একটু চড়া হলেও মনোরম পরিবেশে উপসাগরের রোদ বাতাসে পানাহার বড় আকর্ষণীয় মনে হল। দু'টো দোকানে কথা বলে জানলাম, আগে থেকে বুকিং না থাকায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের আগে জায়গা পাওয়া কঠিন। অগত্যা, একটু এদিক সেদিক ঘুরে একটা হংকংয়ের রেস্টুরেন্ট পাওয়া গেল - ওল্ড টাউন। ভীষণ হাসিখুশী ভদ্রমহিলা জানালো, আমরা বাইরে বসতে চাইলে এখনই বসতে পারি। আর, ভেতরে বসতে চাইলে মিনিট দশেক অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষা করার কথা জানিয়ে বাইরের বেঞ্চিতে বসলাম। মহিলা হাতে একটা মেন্যু ধরিয়ে দিয়ে গেল। নানান বাহারী হংকং আর তাইওয়ানের খাবারে ছবি দেখতে দেখতে ভেতরে আসার ডাক এল । কাস্টমারে ভরপুর দোকানের ভেতর একটা কোণায় রোদঝলমলে টেবিলে বসে দুপুরে খাবার বেছে নিলাম। চিংড়ির স্যুপ, খাসীর মাংসের বার্গার গোছের দু'টো আইটেম আর সয়চিকেন উইথ রাইস। চমৎকার সুস্বাদু খাবার। মনে করতে পারলাম না, এসবিএস ফুডে হংকংয়ের খাবারের ওপর কিছু দেখেছি কী না! সঙ্গী জানালো, রিক স্টেইনেরই একটা প্রোগ্রাম ছিল হংকংয়ের কুইজিনের ওপর।



খাওয়া দাওয়া সেরে জেটি ধরে হাঁটা দিলাম। গন্তব্য - বারাঙরু রিজার্ভ। রোদ ঝলমলে দিন, হালকা বাতাস দিচ্ছে। সাগরে মাঝে মাঝেই দূরপাল্লার ফেরী আসছে, যাচ্ছে। ফুরফুরে মেজাজে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ধাক্কা। সামনে বিরাট লোহার বেড়া। কন্সট্রাকশনের কাজ চলছে, তাই সাগর পাড় ধরে হাঁটা বন্ধ। ঘুরপথে শহরের ভেতর দিয়ে কন্সট্রাকশন এলাকাটাকে পাশ কাটিয়ে আসতেই সামনে একটা টানেল। টানেলের ভেতর মস্ত স্ক্রিনে প্রামাণ্য চিত্র চলছে। আধুনিক শহরের পটভূমিতে আদিবাসী জীবনচিত্র। সাগর, মাছ ধরা, যুবা আর বৃদ্ধের কথোপকথন। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখলাম আর শুনলাম।
কিছু বিরতির পর আবার পথ চলা। পাথরে বাঁধানো সাগর পাড় ধরে হেঁটে চলা। সাগরের চ্যানেলের অন্যপাড়ে সিডনীর শহরতলির বাড়ি ঘর দেখা যায়। নীল জল ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে চৌকা পাথরের ব্লকের ওপর। তার ওপর, ঘাসের ভেতর, গাছের ছায়ায় এখানে সেখানে ছুটি কাটানো মানুষের অলস সময় ক্ষেপণ দেখতে দেখতে বিশাল ঘাসের গালিচায় এসে উপস্থিত হলাম। মিলার্স পয়েন্ট। সামনেই হারবার ব্রিজের বিশাল ধনুক সাগরের চ্যানেলের এপার ওপারকে সংযোগ করেছে। ওপর দিয়ে নর্থ সিডনী মুখী ট্রেনের ঝিকঝিকানি চলছে।
ঘাসের ওপর গড়াগড়ি দিয়ে আর টিলার ওপর হাঁটাহাঁটি করে দুপুরের রোদটা নেমে যখন বিকাল ঘনালো, তখন গা তুললাম। পুরনো সিডনী শহরের ভেতর দিয়ে সার্কুলার কীর পথে পা চালালাম। পুরনো ঘরবাড়ি, পাথরের দুর্ভেদ্য চার্চ, পাহাড়ের ভেতর বিশাল আর্চের টানেল আর থেকে থেকে রিজার্ভ, পার্কের ভেতর দিয়ে পা চালিয়ে যখন গান বাজনার আওয়াজ কানে আসল, বুঝলাম রক্সে এসে পড়েছি।
(সিডনীর প্রাচীনতম হোটেল - বয়স প্রায় পৌনে দু'শ বছর)
হরেক খাবার, পোশাক, গহনা কী নেই রাস্তার দুপাশে! পায়েয়া আর পিৎসার স্টলের সামনে এসে পা আর চলতে চাইল না। বুড়োবুড়ীর দোকানে অভেনে উডফায়ার পিৎসা সেঁকা হচ্ছে গরম গরম আর পাশেই বিশাল তাওয়ায় স্প্যানিশ পায়েয়ার মনকাড়া রঙ আর সুঘ্রাণ। পেটে জায়গা নেই, তাতে কী! একটা মার্গারিটা নিয়ে তিনজনে ভাগযোগ করে খেলাম।
রক্সের আমুদে পরিবেশে আরো কিছুক্ষণ থেকে মনপ্রাণ জুড়িয়ে বাড়ি ফিরলাম।
4 comments:
Beautiful writeup. Thank you to the author. Please write frequently ////// From : [ Major General ] Syed Muhammad Ibrahim [ BirProtik ] ////// Dhaka 2 pm 10th April 2021
Chacha,
It's a great honour to hear from you and receive your kind words. I am overwhelmed. I will share my experiences down under more often.
Yours,
Salehein
সালেহীন, its great reading your writing after a long time. Its a fantastic follow-up as usual. Keep on sharing your experience like old days . And wherever you explore, please let us enjoy your exploration with this type of article. And, if possible, with videos. Happy exploration, dear Explorer.....
Post a Comment